বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার

বাংলালিংক প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পোস্টঅফিস (বিপিও)-এর মাধ্যমে সারাদেশজুড়ে নিয়ে এসেছে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার(ইএমও) সেবা।

এই সেবার মাধ্যমে দেশের যে কোন স্থানে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠানো সম্ভব, যেখানে এতদিন লাগতো সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময়। ১২০০ পোস্টঅফিসকে এই সেবার আওয়াতাভুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও আস্তে আস্তে এই সেবার আওতায় চলে আসবে।


সেবার বিস্তারিত

ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার ইস্যু:

ধাপ ১: প্রেরককে পোস্ট অফিসে এসে টাকা জমা দিতে হবে এবং একজন নির্ধারিত বিপিও কর্মকর্তার নিকট ফরম পূরণ করতে হবে।

ধাপ ২: বিপিও কর্মকর্তা মানি অর্ডার ইস্যু করবেন।

ধাপ ৩: প্রেরক একটি ১৬ অংকের পিন নাম্বার পাবেন।

ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার প্রদান:

ধাপ ১: প্রেরক ট্রানযেকশানের বিস্তারিত তথ্য যেমন, টাকার পরিমাণ, ১৬ অংকের পিন নাম্বার প্রাপকের কাছে প্রেরণ করবেন ফোনকল, এসএমএস কিংবা অন্য যে কোন পদ্ধতিতে।

ধাপ ২: প্রাপক নিকটবর্তী যে কোন পোস্ট অফিসে যাবেন এবং মানি অর্ডার অ্যানকেশমেন্ট ফরমে টাকার পরিমাণ ও ১৬ অংকের পিন নাম্বার প্রদান করবেন।

ধাপ ৩: বিপিও কর্মকর্তা প্রদানকৃত তথ্যগুলো যাচাই করবেন এবং সঠিক প্রাপককে টাকা প্রদান করবেন এবং ট্রানযেকশানটি সম্পন্ন হয়েছে বলে চিহ্নিত করবেন।

ধাপ ৪: ট্রানযেকশান সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে প্রেরকের নিকট একটি ’ইএমও এসএমএস’ চলে যাবে।

 

 

 

প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও উত্তর

১. এই সেবাটি কারা উপভোগ করতে পারবে?
উত্তর: দেশের মধ্যে যে কেউ এই সেবা উপভোগ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে প্রবাসীরাও এর মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন।

২. প্রচলিত মানি অর্ডারের সাথে এই সেবাটির বিশেষ পার্থক্য কোথায়?
উত্তর:

  • দেশের অভ্যন্তরে মুহূর্তেই টাকা পাঠানো সম্ভব।
  • টাকা পাঠানোর সময় কমে গেছে। আগে যেখানে ৭-১০ দিন লাগতো এখন সেখানে মুহূর্তেই পাঠানো সম্ভব।
  • টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদান করতে সরকারী প্রতিষ্ঠান (পোস্ট অফিস)।
  • প্রাপক টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে প্রেরকের কাছে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস চলে যাবে।
  • সঠিক পদ্ধতিতে টাকা পাঠানোর মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব সম্পন্ন হয়।
  • সরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ফলে দেশের প্রতি একধরণের দায়িত্বও পূরণ হয়।

৩. মানি অর্ডার ইস্যুকারীকে এই সেবা পেতে কী করতে হবে?
উত্তর:

  • মানি অর্ডার ইস্যুকারীকে পোস্ট অফিসে যেতে হবে, মোবাইল নাম্বার প্রদান করতে হবে, যে পরিমাণ টাকা পাঠানো হবে সেটা উল্লেখ করতে হবে, টাকা পাঠানোর ফি প্রদান করতে হবে। পোস্ট অফিস কর্মকর্তা মানি অর্ডার ইস্যু সম্পন্ন করলে তার মোবাইল নাম্বারে একটি ১৬ অংকের পিন নাম্বার চলে যাবে।
  • এরপর প্রেরক এই পিন নাম্বারটি প্রাপকের কাছে প্রেরণ করবেন। এবং প্রাপক পোস্ট অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

৪. টাকা ইস্যু হওয়ার পরও যদি প্রেরক কোন এসএমএস না পান সেক্ষেত্রে তিনি কি করবেন?
উত্তর: তিনি বিষয়টি কর্তব্যরত বিপিও কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন এবং তাকে আরেকটি এসএমএস পাঠানো হবে।

৫. এই সেবার চার্জ কেমন?
উত্তর: প্রেরককে নিচের হারে চার্জ প্রদান করতে হবে।:

মানি অর্ডারের পরিমাণচার্জ
১০০০ টাকা পর্যন্ত২৭ টাকা
পরবর্তী প্রতি ১০০০ টাকা এর জন্য১০টাকা করে

- যেমন, ৪০০০ টাকা পাঠাতে চার্জ হবে ৫৭ টাকা
- ১০,০০০ টাকা পাঠাতে চার্জ হবে ১১৭ টাকা

৬. এই সেবার মাধ্যমে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যাবে?
উত্তর: এই সেবার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পাঠানো যাবে।

৭. ইলেকট্রনিক মানি অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে কতক্ষণ সময় লাগবে?
উত্তর: সঙ্গে সঙ্গে।

৮. এই সেবা পেতে কি বাংলালিংক মোবাইল সংযোগ থাকা প্রয়োজন?
উত্তর: না, যে কোন মোবাইল নাম্বার হলেই হবে।

৯. টাকা পাঠাতে কি প্রেরকের মোবাইল নাম্বার থাকা জরুরী?
উত্তর: প্রেরককে ইএমও এসএমএস পাঠানোর জন্য তার একটি মোবাইল নাম্বার থাকা প্রয়োজন। তা হলে তাকে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

১০. এই সেবা কি দেশের সব পোস্ট অফিসে পাওয়া যাবে?
উত্তর: না, শুধুমাত্র বাংলালিংক কর্তৃক যেসব পোস্ট অফিসে এই সেবা আছে সেখানে পাওয়া যাবে।

১১. এই সেবা পাওয়ার সময় কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত?
উত্তর:

  • ইএমও আছে এমন পোস্ট অফিসে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যেকোন কার্য দিবসে।
  • এছাড়া যেসব পোস্ট অফিসে সান্ধকালীন সেবা চালু আছে সেখানে বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ।